No icon

সোশ্যাল মিডিয়াঃআমার প্রতিক্রিয়া

হাসিম উদ্দিন আহমেদ 
.....
ফেসবুকে পরিচিত অনেকেই আছেন যারা নিয়মিত লেখেন। তাদের কেউ কেউ বেশ ভালো লেখেন। কারো কারো লেখা খুব দীর্ঘ হয়। তবে, দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও তা এক দমেই পড়ে ফেলা যায়। কোন ক্লান্তি ভর করেনা। বরং শেষ হয়ে যাওয়ার আফসোসে আচ্ছন্ন হতে হয়। 
লেখাগুলো তথ্য ও তত্ত্বের দিক থেকে যথেষ্ট মানসম্পন্ন হওয়ায় পাঠকের দৃষ্টি আটকে রাখে। পাঠক লেখা পড়ে তুষ্ট হয়। 

এধরণের লেখার জন্য অপেক্ষায় থাকি। অপেক্ষা প্রায়ই দীর্ঘতর হয়। কখনো অপেক্ষার প্রহরটি দীর্ঘ হওয়ার আগেই কোন একটি ভালো লেখা ঠিকই পেয়ে যাই। তাছাড়া, নিউজ ফিড বা হোমপেজ ছেড়ে অনেক সময় বিশেষ কিছু আইডির টাইমলাইনে চক্ষর দিই। ভাল লেখার তালাশ করি। নিজের টাইম লাইন ছেড়ে অন্যের টাইম লাইনে ঘুরি। 

জ্ঞানতৃষ্ণা স্বাস্থ্যকর। এতে মনের স্বাস্থ্য ঠিক থাকে। জ্ঞানের তৃষ্ণা উপকারী বটে। ফেসবুক এক্ষেত্রে আমাদের এক অসাধারণ সুযোগ এনে দিয়েছে। যদিও ফেসবুক নিয়ে অধিকাংশ 'শিক্ষিত' ও 'সচেতন' মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা রয়েছে। কেউ কেউ ফেসবুককে চরিত্র বিধ্বংসী বলে অভিজ্ঞান করেন। কেউবা টাইম কিলার বলে একে চরম ক্ষতিকর মনে করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এতে দৃষ্টিশক্তির ভয়ানক ক্ষতি হওয়ার ঝুকিও দেখছেন। কোনটাই ফেলে দেওয়ার মতো নয়। বহু মানুষ, বহু মত। এটাই ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য। ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে চিন্তা-চেতনা ও মত-পথের পার্থক্যই স্বাতন্ত্র‍্যবোধ। 

এগুলোকে স্বীকার করেই বলি, ফেসবুকে প্রায়ই এমন কিছু ভালো লেখার সাক্ষাত পাই, যেখানে লেখক অসাধারণ বাগ্মিতায় চমৎকার সব যুক্তি উপস্থান করেন। অনেক সময় যুক্তি খণ্ডানো সহজ সাধ্য হয়না। তাই প্রতিউত্তর দিতে গিয়ে থমকে দাঁড়াই। কিছু লেখার গন্তব্য স্পষ্টতই আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আদর্শের সরসারি পরিপন্থী হয়। তা সত্ত্বেও মুগ্ধতায় আটকে যাই। বিমোহিত হই লেখার প্রতি। শ্রদ্ধায় নুঁইয়ে পড়ি এর লেখকের প্রতি। 
অথচ, লেখক আমার চিন্তার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান থেকে বলে গেলেও লেখার মেরিটকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হই।

শিক্ষিত মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার সহনশীলতা। পরমতসহিষ্ণু ও উদার মন মানসিকতা। এই একটি জায়গায় আমাদের 'মান' সামগ্রিক শিক্ষার মানের মতোই প্রশ্নসাপেক্ষ। অধঃপতিত।

কেউ আছেন - খুব চমৎকার লেখেন। ভাল কোন বিষয়ে জোরাল ভাষায় লেখেন। তবে, লেখার মাঝে পাঠককে চমকিত হতে হয়। দ্বিধাদ্বন্ধে ভুগতে হয়! বিরুদ্ধ মত বা পথের কাউকে নিয়ে কিংবা রাজনীতির মঞ্চের শীর্ষ কোন ব্যক্তিত্বের প্রতি চরম 'নোংরামিপূর্ণ' মন্তব্য কিংবা 'অশ্লীল' গালিগালাজ জুড়ে দেন। এ অবস্থায় লেখক যত ভালোই হোক, তার লেখার প্রতি আস্থা নস্ট হয়। অনেক সময় বিরক্তিবোধ কাজ করে। একই লেখকের অন্যান্য ভালো লেখাগুলোর জন্য তখন মায়া হয়। ভালো লেখাগুলোর প্রতি তাকিয়ে তার প্রতি ভালোবাসার কারণে তাকে আর আনফ্রেন্ড করা হয়না। পারা যায়না। 

অথচ, ফেসবুকে ভালো কাজের মাধ্যমে; ভালো, রুচিশীল ও শিক্ষিত একটা প্রজন্ম দাঁড় করানো যায়।
লেখা নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ। লেখার শক্তি স্বীকৃত। লেখার মাধ্যমে যত তাড়াতাড়ি অন্যকে প্রভাবিত করা যায়, অন্য কিছুতে এটা প্রায় অসম্ভব। 

আসুন, আমরা ভালো লেখাকে উৎসাহিত করি। ভালো লেখকের পাশে থাকি। ভালো লেখার চেষ্টা করি। বিশাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভালো পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে কাজ করি। ভালোর পক্ষে, ভালোর জন্য জয়গান করি। 
........
হাসিম উদ্দিন আহমেদ। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কথার পাতা। 

Comment As:

Comment (0)