No icon

মগজ ধোলাই এবং আমাদের তরুণ সমাজ

হাসিম উদ্দিন আহমেদ

তরুণরাই একটি দেশের মূল শক্তি। তারুণ্যের অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েই একটি দেশ ও জাতি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধন করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়।

বাংলাদেশে তরুণদের একটা বিরাট অংশ ভুল মোটিভেশনের শিকার হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। ডেস্টিনি নামের একটি সংস্থা আমাদের শিক্ষিত তরুণদের মগজ ধোলাই'র কাজটা একসময় বেশ সফলভাবে করেছিল। কি দারুণ স্মার্টনেস আর মনভুলানো কথামালায় পুরো বাংলাদেশ জুড়ে এক অভাবনীয় স্বপ্নের জাল বিস্তার করেছিলো ডেস্টিনি মাল্টিপারপাস নামীয় কোম্পানিটি।

ডেস্টিনি করেই দেশের নামকরা সামরিক অফিসার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ডাকসাইটে সাংবাদিকসহ অনেকেই যারা সাফল্যের চরম শিখরে উঠে সুখ-সুধায় হাবুডুবু খাচ্ছেন, এমন ভাগ্যবান ডেস্টিনিক হীরা-মানিকদের সাফল্যগাঁথা শুনতাম ডেস্টিনিতে মত্ত স্মার্ট তরুণদের মুখে। শীত বর্ষা বারোমাস টাইপড়া ডেস্টিনি ভদ্দরলোকেরা খুশবোভরা সুবাসে আমাদের তরুণদের একটা বিশাল অংশকে স্বপ্নের রাজপুত্তুর বানাতে সক্ষম হয়েছিলেন বটে ! এই স্বপ্নের রাজপুত্তুরদের কেউ কেউ দরীদ্র বাবার আয় রোজগারের একমাত্র সম্বল দুধের গাভি বিক্রির টাকা ডেস্টিনির 'ড্রিম সেন্টার'-এ জমা করে রেখেছে। কেউবা বিধবা মাকে 'আর চিন্তা নয়' জাতীয় গ্যারেন্টি বাক্য শুনিয়ে বাপ-দাদার ভিটে-মাটিটুকু বিক্রি করে স্বপ্নের সিঁড়ি সাজিয়েছে। 

এ কাহিনী সবারই জানা। তরুণ প্রজন্মকে ডেস্ট্র্য় করার মিশন নিয়ে আলোচিত ডেস্টিনি নিজেই এখন ডেস্ট্রয়েড ! আর এর প্রধান ডিলাররা হয়েছেন বিচারের মুখোমুখি। 

আইএসএস, আল ক্বায়েদা, আনসারুল্লাহ বাংলাটিম ইত্যকার ধর্মীয় ফ্লেভারযুক্ত সংঘটনগুলোর টার্গেটও আমাদের তরুণ সমাজ। খুবই শর্টকাটে বেহেস্ত পাবার মন্ত্রণায় এই তরুণদের একটা অংশ ডেস্টিনি মাল্টিপারপাসের মতোই উদ্বুদ্ধ হচ্ছিল। যার পরিণতি, অসংখ্য উদাহরণের মাঝে গুলশান ট্রাজেডি। কেবল মাত্র মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে ধর্মের নামে তারুণ্যের অপচয় একইসাথে রাষ্ট্র ও মানবতার ভয়ানক বিপর্যয় এখন বিশ্বব্যাপী। 

ইদানিং আমাদের রাজনীতিও তরুণদের মগজ ধোলাইয়ের কাজটি করছে বেশ পরিকল্পিতভাবে। তবে, টেকনিকে একটু ভিন্নতা আছে। রাজনীতির মগজ ধোলাইয়ে সবকিছু হয় নগদ প্রাপ্তিতে। অর্থবিত্তের মালিক আর অবাধ ক্ষমতা চর্চার উৎকৃষ্ট সুযোগ সম্ভব কেবল গুরুর গুরুত্ব বুঝার মাধ্যমে। তরুণদের একটা বিরাট অংশ এখন গুরু-শিষ্যের খেলায় মত্ত !  

নয়ন বন্ড'রা এই খেলারই সৃষ্টি।

হাসিম উদ্দিন আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কথার পাতা।

Comment As:

Comment (0)