No icon

ব্ল্যাকহোল

ব্ল্যাকহোলঃ ফাঁকহীন এক গহবরের কথা

শাহরিয়ার আলম শান্ত

কিছুদিন আগে ফেসবুকে স্ক্রোল করতে করতে উপরের এই ছবিটা মোটামুটি সবারই একবার হলেও চোখে পরেছে। কেউ নিছক একটা ছবি ভেবে এড়িয়ে গেছি,কেউবা জেনেছি আবার অনেককেই দেখেছি এই ছবি নিয়ে ট্রোল করেছে।আসলেই,এই ছবিটা দেখে এর সম্পর্কে কিছু জানা’র বা বুঝার উপায় নেই। নিছক একটা ছবিই মনে হয়।
কিন্তু এই ছবিটি বহু বিজ্ঞানীদের দুইশত বছরেরও বেশি সময়ের চিন্তা ধারার একটি বাস্তব চিত্র।এর নাম কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল।ধারনাটি দুইশত বছেরের পুরনো হলেও ব্ল্যাকহোল শব্দটি প্রথম ব্যাবহার করেন ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক আমেরিকান বিজ্ঞানী।আর এই বছরের ১০ এপ্রিল পৃথিবী বাসী প্রথম বারের মত এর ছবি দেখতে পায়।পৃথিবী জুড়ে স্থাপিত আটটি টেলিস্কোপের(ইভেন্ট হরাইজন্স টেলিস্কোপ) সাহায্যে বিজ্ঞানীরা এর ছবি ধারন করেন।পৃথিবী থেকে এই ব্ল্যাক হোল ৫০ কোটি ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরে(১ ট্রিলিয়ন সমান ১০০ হাজার কোটি), এবং এটার ভর (এর মধ্যেকার পদার্থের পরিমাণ) সূর্যের চাইতে ৬৫০ কোটি গুণ বেশি।এর আয়তন ৪ হাজার কোটি কিলোমিটার - যা পৃথিবীর চাইতে ৩০ লক্ষ গুণ বড়।

এ তো গেলো এর আকার আকৃতির কথা।এবার আসেন জেনে নেই ব্ল্যাকহোল কী?কিভাবে সৃষ্টি?এর নাম ব্ল্যাকহোল হলেও এটি দেখতে অত কালো নয় এবং এটি কোন গর্ত বা ফাঁকা জায়গাও নয়।নক্ষত্রের মৃত্যুতে সৃষ্টি হয় ব্ল্যাকহোল এর।
মহাকর্ষ বল সম্পর্কে আমারা সবাই জানি।মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে।

ব্ল্যাকহোল হলো এমন এক বিশাল ভর বিশিষ্ট বস্তু যার মহাকর্ষ ক্ষেত্র এতো শক্তিশালী যে, ক্ষুদ্র বা বিশাল ভর বিশিষ্ট কোন বস্তু এমনকি ভরহীন আলোক কণিকাও এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না।তাই এর মহাকর্ষ ক্ষেত্রে কোন তারা,গ্রহ নক্ষত্র বা কোন স্পেসশীপ প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না।কোন বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পরলে আমরা বস্তুটি দেখতে পাই।আর যেহেতু ব্ল্যাকহোল থেকে আলোও বেরিয়ে আসতে পারেনা তাই কোন বস্তু ব্ল্যাকহোলে প্রবেশ করলে আমরা ঐ বস্তুটিকে আর দেখতে পাই না।এ যাবত কাল এসব ছিলো বিজ্ঞানীদের কল্পনা আর এখন সেটা আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান। 
এখন প্রশ্ন হলো, যেহেতু ব্ল্যাকহোল থেকে আলো বের হতে পারে না তাহলে বিজ্ঞানীরা কিভাবে এর ছবি ধারন করলো?
সাধারণভাবে, একটি ব্ল্যাকহোলকে দেখা প্রায় অসম্ভব।কিন্তু এর আশেপাশের তারকা এবং গ্যাস কীভাবে এর দ্বারা প্রভাবিত হয় বা হচ্ছে বিজ্ঞানীরা এটা দেখতে পারেন এবং এগুলোর উপর স্টাডি করে ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে ধারণা করতে পারে।
ব্ল্যাকহোল কে মহাকাশের দানব বলা হয়।আমাদের এই সৌরজগতের মতো অসংখ্য সৌরজগতকে সে গিলে ফেলতে পারে। তাহলে ব্ল্যাকহোল কি পৃথিবী বা সৌরজগত ধংসের কারণ হতে পারে? 
না!কারণ ব্ল্যাকহোল পৃথিবী থেকে অনেক অনেক দূরে অবস্থিত।বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে,পৃথিবী, সৌরজগত বা কোন স্পেসশীপ কখনো ব্ল্যাকহোল এর মহাকর্ষ ক্ষেত্রে পৌঁছাতে পারবে না।

পরিশেষে, এই ছবি থেকে যেমন, বহু বিজ্ঞানীর  কল্পনা ও চিন্তাধারার প্রমাণ মিলেছে তেমনি জন্ম দিয়েছে বহু প্রশ্নের, যা বিজ্ঞানীরা আগে কল্পনাও করেননি। 

শাহরিয়ার আলম শান্ত, বিএসসি (অনার্স) অধ্যয়নরত, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Comment As:

Comment (0)