No icon

সময় থাকতে সন্তানের দিকে মনযোগী হন।

সন্তানের মোটিভ হঠাৎ চেঞ্জ হচ্ছে কীনা তার ভাল অবজারভার হতে পারেন পিতামাতা। তারপর তার শিক্ষক। অস্বাভাবিক কোন পরিবর্তন সমাজের কাছে আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক ও পিতামাতার কাছে সুখকর মনে হলেও পিতামাতার উচিত সন্তানের হঠাৎ পরিবর্তনগুলোর দিকে মনোযোগী হওয়া। সম্ভব হলে পরিবর্তনের কারণ উদঘাটন করা। 

সাধারণত রিলিজিয়ন ফেইথ বা ইমোশন প্রত্যেকের রক্তজাত প্রতিক্রিয়া মাত্র। পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত যার যার ধর্মীয় বিশ্বাস তার তার কাছে শ্রেষ্ঠ হওয়াটাই স্বাভাবিক। এখানে যুক্তি ও জ্ঞানের শক্তির চেয়ে পারিবারিক ঐতিহ্যের মূল্যটাই প্রধান। অথচ, স্ব-ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বকে বুঝতে হলে সবার আগে বুঝার মত শক্তি বা যোগ্যতা অর্জন করতে হয়, সেদিকটাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ধর্ম বিশ্বাসীদের কাছে। ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বকে বুঝতে হলে যে সবার আগে শ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়া লাগে সেই বোধ-জ্ঞান অর্জন করতে হয়। 

এধরণের বোধ-জ্ঞান ও বিবেকের দরজা ওপেন করার জন্য শ্রেষ্ঠতম বাহন হল উদার শিক্ষাব্যবস্থা। তবে, এটাও সত্য, অনুদার মন ও বিবেকরূদ্ধ যে কেউ উদার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সময় ব্যয় করলে উপকার হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। 

সন্তান যখন হঠাৎ ধর্মে কর্মে কেবল মনযোগী নয়, বিভোর হয়ে যায়, পিতামাতার উচিৎ সন্তানের ব্যাপারে সজাগ হওয়া। সে ইদানিং কার সাথে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, কোন কোন ধরণের বই পড়ায় ব্যস্ত হয়ে উঠছে, এগুলো সুক্ষ্মভাবে খেয়াল করা উচিত। 

প্রত্যেক পিতামাতার কাছেই সন্তানের ধার্মিকতাবোধ অহকাংকারের, তৃপ্তিকারক। কিন্তু, পারিবারিক কোন সংশ্রব ছাড়া যখন হঠাৎ তার ধর্মীয় বিষয়ে অভাবিত পরিবর্তন সাধিত হয়, দেখতে হবে তার ধর্মচর্চা কতটা স্ব-তাড়িত আর কতটা ব্রেইন ওয়াশডকৃত। 

সময় এখন এতটাই গতিশীল হচ্ছে যে, পিতামাতার একেবারে বুকের আগল থেকে দূরবাসী কোন চক্র সন্তানকে বাতাসের গতিতে নিয়ে যাচ্ছে। পিতামাতা টেরই পাচ্ছেননা।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যাপার হল, একটা নির্দৃষ্ট বয়সের তরুণদেরকেই টার্গেট করা হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত পরিপারের স্মার্ট ও আধুনিক শিক্ষিত তরুণ যারা পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারণে দারুণ হতাশার মধ্যে ডুবে থাকে, এরাই সহজ শিকার হচ্ছে। 

ফল যা হবার তাই হচ্ছে। চোখের সামনে অনেক উদাহরণ ইতিমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। তাই, আর সময় নস্ট নয়। প্রত্যেকের সন্তানের দিকে নজর দেওয়ার সময় হয়েছে। মনে রাখতে হবে, একবার ভুলপথে চলে গেলে আদরের সন্তানকে ফিরিয়ে আনা সহজ হবেনা।  

হাসিম উদ্দিন আহমেদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সাখুয়া আদর্শ বিদ্যানিকেতন (উচ্চ বিদ্যালয়) 

Comment As:

Comment (0)